Showing posts with label আত্মউন্নয়ন. Show all posts
Showing posts with label আত্মউন্নয়ন. Show all posts

Monday, November 25, 2024

নিজেকে ভালোবাসার গল্প: Self-Acceptance এর শক্তি


নিজেকে ভালোবাসুন: Self-Acceptance এর যাত্রা

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে? কিন্তু প্রায়শই আমরা নিজেদের ভুল, দুর্বলতা, বা সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়ে এতটাই কঠোর হয়ে যাই যে নিজেকে গ্রহণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

Self-Acceptance মানে কী?
Self-Acceptance হলো নিজের প্রতি সম্পূর্ণ ভালোবাসা এবং সম্মান বজায় রাখা। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আমরা আমাদের শক্তি ও দুর্বলতাকে সমানভাবে গ্রহণ করি। এটি পারফেকশন নয়, বরং নিজের জন্য সহানুভূতিশীল হওয়া।

কেন Self-Acceptance জরুরি?

  • এটি আমাদের মানসিক চাপ কমায়।
  • নিজের ভুল থেকে শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।
  • সম্পর্কগুলিকে আরো সুস্থ ও স্থিতিশীল করে।
  • আত্মবিশ্বাস ও সুখানুভূতি বাড়ায়।

Self-Acceptance কীভাবে চর্চা করবেন?

  1. নিজের প্রতি দয়া দেখান: ভুল করা মানে আপনি ব্যর্থ নন, আপনি মানুষ।
  2. নেতিবাচক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করুন: নিজেকে ছোট করে দেখা বন্ধ করুন।
  3. নিজের সফলতাগুলো উদযাপন করুন: ছোট ছোট অর্জনকেও গুরুত্ব দিন।
  4. তুলনা এড়িয়ে চলুন: আপনার যাত্রা আপনার, অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না।
  5. নিজের জন্য সময় দিন: এমন কিছু করুন যা আপনাকে আনন্দ দেয়।

মনে রাখবেন, আপনি যেমনই হোন, আপনার একটি অনন্য গুণাবলি রয়েছে। Self-Acceptance এর যাত্রা শুরু করতে দেরি করবেন না। নিজেকে গ্রহণ করুন, নিজের প্রতি সদয় থাকুন, এবং দেখবেন জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।

"আপনার গল্প আপনিই লিখুন, কারণ সেটিই আপনাকে আলাদা করে তোলে।"

Tuesday, October 15, 2024

অযৌক্তিক বিচার: তাড়াহুড়ো করে মন্তব্য করার নেতিবাচক প্রভাব


যৌক্তিক বিশ্লেষণ ছাড়াই মন্তব্য করা বা কাউকে বিচার করা প্রায়শই "জাজমেন্টাল" হওয়ার সাথে সম্পর্কিত। এটি এমন একটি আচরণ যেখানে মানুষ কোনো ঘটনা, ব্যক্তি বা পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত মন্তব্য করে, যা প্রায়ই তথ্য, প্রেক্ষাপট বা বিশ্লেষণের অভাবে ঘটে।

জাজমেন্টাল হওয়া আসলে কি?:

১. তথ্যের অভাব:  মানুষ পুরো প্রেক্ষাপট না বুঝেই কোনো কিছুতে মন্তব্য করে। যেমন, কাউকে শুধু তার বাহ্যিক আচরণ বা পোশাক দেখে বিচার করা।

২. তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত: একজন জাজমেন্টাল ব্যক্তি খুব তাড়াতাড়ি মন্তব্য করতে বা মতামত দিতে ভালোবাসে, যা প্রায়শই কোনো প্রকৃত জ্ঞান বা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হয় না।

৩. নেতিবাচক মনোভাব: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জাজমেন্টাল মন্তব্য নেতিবাচক হয়। এটি অন্যকে ছোট করতে বা তাদের দুর্বলতাগুলোর ওপর মনোযোগ দিতে ব্যবহৃত হয়।

এটি ভালো না খারাপ?

এটি সাধারণত খারাপ বলে বিবেচিত হয় কারণ:

১. সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে: জাজমেন্টাল হওয়া মানুষের সাথে ভুল বোঝাবুঝি এবং দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে। মানুষ অপ্রত্যাশিতভাবে সমালোচনামূলক মন্তব্য গ্রহণ করলে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

২. আত্মবিশ্বাসে আঘাত: যদি কোনো ব্যক্তিকে কোনো প্রসঙ্গ না বুঝে বা ঠিকমত না জানিয়ে সমালোচনা করা হয়, তাহলে তাদের আত্মবিশ্বাসে আঘাত লাগতে পারে।

৩. আলোচনা বা বোঝার সুযোগ কমায়:

তাড়াহুড়ো করে মন্তব্য করা মানে আপনি পুরো গল্পটি শোনার সুযোগ নেননি। এটি বোঝার অভাব এবং ব্যক্তিগত বা পেশাগত ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে।

কখন এটি উপকারী হতে পারে?

বেশিরভাগ সময় জাজমেন্টাল হওয়া নেতিবাচক হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি ভালোও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ কোনো গুরুতর পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চায় যেখানে সময়ের অভাব, তখন তাৎক্ষণিক মন্তব্য বা বিশ্লেষণ করতে হতে পারে। তবে, এটি নিশ্চিত করতে হবে যে সিদ্ধান্তটি যথাসম্ভব যুক্তিযুক্ত।


শেষকথাঃ

যৌক্তিক এবং বিবেচনাপ্রসূত না হয়ে দ্রুত মন্তব্য করা বা বিচার করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এবং সমস্যাগুলো আরও জটিল করতে পারে। একজনকে বিচার করার আগে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট বোঝা এবং তথ্য সংগ্রহ করা উচিত, যাতে মন্তব্য বা সিদ্ধান্তটি যুক্তিযুক্ত ও সঠিক হয়।

Tuesday, July 2, 2024

Celebrating 6 Incredible Years at PriyoShop

I’m truly grateful to celebrate my 6th work anniversary at PriyoShop.com Limited — a journey filled with growth, learning, and meaningful connections.

Over the past six years, I’ve had the privilege of working alongside some of the most talented, dedicated, and inspiring individuals in the industry. Their teamwork, creativity, and commitment to excellence have made every challenge worthwhile and every success even more rewarding.

I want to express my sincere gratitude to the PriyoShop management team for creating a culture that values growth, innovation, and collaboration. A special note of thanks to Asikul Alam Khan Sir — your leadership and vision have shaped not just the company’s success but also the values we live by every day.

Looking back, I’m proud to have contributed to PriyoShop’s mission of building a B2B ecosystem that connects MSMEs with manufacturers and helps small businesses thrive across Bangladesh. It’s been an incredible experience to be part of something that’s making a real impact in the retail and distribution landscape.

As I celebrate this milestone, I feel a deep sense of appreciation for the opportunities, mentorship, and trust I’ve received throughout my journey. I’m excited to continue growing with PriyoShop, working together to create a sustainable ecosystem that empowers MSMEs and drives positive change.

Thank you to everyone who has been part of this journey — colleagues, mentors, partners, and friends. Your support means everything. Here’s to many more years of teamwork, innovation, and success ahead!

#PriyoShop #WorkAnniversary #B2BMarketplace #MSME #Teamwork #Bangladesh #Growth #Gratitude

Saturday, August 13, 2022

দীর্ঘ ৪ বছরের সম্পর্ক ভেঙে যেতে দেখেছেন? এবং অতীত ভুলে সুখী হয়েছে কিনা?


 আমি দেখেছি ৬ বছর নয় শুধুমাত্র। দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্ক ভেঙেছে। এবং দুজন আলাদা হয়ে গেছে। একজন বিয়ে করে সংসার করছে। আরেকজন এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজের মতো করে।

অতীত ভুলে সুখী হয়েছে কিনা?

এটা সম্পূর্ণই আলাদা বিষয়। মনস্তাত্বিক ব্যাপার। অতীত খুব সহজে ভুলা সম্ভব হয়না। তবে আস্তে আস্তে স্মৃতিগুলো ধুসর হতে থাকে। যখন নতুন সম্পর্কে নতুন নতুন স্মৃতি যোগ হতে থাকে। সময়গুলো সুন্দর কাটে। তখন স্বাভাবিক ভাবেই আগের স্মৃতি নিয়ে ভাবার সময় কম থাকে। ব্যস্ততা বাড়ে, সংসারের কাজ বাড়ে। সব মিলিয়ে যদি কেউ চায়, আগের অতীত ভুলে সামনের দিনগুলো ভালো কাটাবে। তাহলে অবশ্যই সম্ভব।

তবে, বর্তমানে এরকম লম্বা রিলেশনশীপ ভেঙে যাওয়াটা অবাক হবার মতো কিছু নয়। হরহামেশাই এমন ঘটনা ঘটছে। একসাথে থাকার পরেও সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। নতুন করে অন্য কোথাও সুখ খুজার চেষ্টা করছে নিয়মিত। লম্বা সময় কোনো বিষয় নয়। ৬ কিংবা ৯ । হতে পারে ৬ মাসের সম্পর্কেও অনেক বেশি আনন্দ আর ভালোবাসা থাকে। যেটা ছেড়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।

তাই আমার মনেহয়- সম্পর্কের বয়স দিয়ে ভালোবাসা পরিমাপ করা অসম্ভব। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে সবার আগে নজর দিবেন। ধন্যবাদ।

ফেসবুকে আমিঃ শাকিল আহমেদ রেদওয়ান

লিংকডইনে আমিঃ Shakil Ahmed

Saturday, June 11, 2022

আপনি কি নিজের উপর নিজের কন্ট্রোল হারাচ্ছেন? রাগের সময় কি করছেন? নিজের জীবনকে নিখুঁত করার দায়িত্ব একান্তই নিজের।


নিজের জীবনকে নিখুঁত করার দায়িত্ব একান্তই নিজের। শুধুমাত্র আশা করে বসে থাকলেই খাবার টেবিলে নিশ্চয়ই খাবার চলে আসবেনা, তার জন্য কাজ না করলে। শুধুমাত্র কারো উপর ভরসা করে বসে থাকলে কখনোই সেটা পরিপূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়না। প্রত্যেকটি কাজেই ব্যর্থতা থাকবে। 

নিজের ইমোশনকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা যদি আপনার থাকে, রাগের মুহুর্তকে যখন সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতে পারবেন। তাহলেই নিজের উপর অর্ধেক কন্ট্রোল আপনার চলে এসেছে। রাগের সময় নিজেকে কিভাবে নিয়ন্ত্রন করেন? 

জীবন যেমন চিরস্থায়ী নয়, সময় তারই একটা অংশ। তাই অবশ্যই আমাকে বুঝতে হবে কোন কাজের গুরুত্ব বেশি, আর কোন কাজের গুরুত্ব কম। সেভাবেই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহন করে এগিয়ে যেতে হবে।

কোনো কিছুতেই ওভার থিংকিং করা যাবেনা। কোনো একটা বিষয়ে এনালাইসিস করা যেতে পারে, বুঝার চেস্টা করাটা ডিফারেন্ট। কিন্তু ছোট একটা বিষয়কে কখনোই অনেক বড়ভাবে চিন্তা করে নেগেটিভ ইমপ্যাক্টের মাধ্যেমে জীবনের সহজতর চলার পথকে কঠিন করা যাবেনা। থিংকিং ইজ গুড। বাট ওভার থিংকিং কখনোই পজেটিভ নয়।

সবচেয়ে বড় যেই ব্যাপার, তা হলো- আপনার নিজের ব্যথা অন্য কেউ ফীল করতে পারবেনা। তাই অন্যের কথায় কান দিতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেললে আর খুঁজে পাবেন না। 

নিজেকে কখনোই সেই চিন্তার ধারে কাছেও নেয়া যাবেনা, যে- আপনি অনেক কিছু জেনে ফেলেছেন, অনেক ডিগ্রী আপনার দখলে তারমানে দুনীয়ার সকল জ্ঞান আপনার মধ্যে চলে এসেছে। ভুল করেও এমন মনোভাব যেনো নিজের মধ্যে তৈরি না হয়। মানুষ মৃত্যু পর্যন্ত শিখতে থাকে। শিখতে হয় প্রতিটা স্টেপে। একাডেমিক জ্ঞান, আর বইয়ের পাতায় লিখা হাজার লাইনের গল্প, স্ট্রাটেজি , সিস্টেম, আপনাকে যতটুকু শিখাবে, তারচেয়ে অধিক শিখাতে পারে একজন সাধারণ ব্যক্তি, যার সাথে হয়তো আপনি আজকে রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট কথা বলেছেন। অথবা আপনার সামনে থাকা আপনার প্রিয় বস, অথবা সিনিয়র, জুনিয়র কোনো ব্যক্তি। যে শিখে এসেছে জীবনের প্রতিটি ধাপে কেমন করে এগিয়ে যেতে হয়। 

আপনার চিন্তাশক্তি আপনাকে পরিচালিত করবে। যখন আপনি ভাববেন কাজটি সম্ভব আপনার দ্বারা। ধরে নিতে পারেন অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আর যদি ভাবেন সম্ভব নাহ। তাইলে নিজেই নিজের মাইন্ডের সাথে পেরে উঠলেন না। হেরে গেলেন প্রথমেই। আমরাই আমাদের বড় বন্ধু এবং আমরা নিজেরাই নিজেদের বড় শত্রুও। 

#শাকিলআহমেদরেদওয়ান 

Thursday, January 6, 2022

স্বপ্ন যেনো না হয় ফাঁদ | বিশ্বাস করুন বুঝে শুনে যুক্তির মাধ্যমে | আপনিও কি লোভের চক্রে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পারেন ভুলবশত?

মানুষ স্বপ্ন দেখে, বিশ্বাস করে, আপনিও হয়তো স্বপ্নে বিভোর হয়ে যেতে পারেন, বা লোভের চক্রে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পারেন ভুলবশত। যেখান থেকে চাইলেও বের হতে পারবেন না একবার ঢুকে গেলে। তাই আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করে সাবধানে পথচলা নিশ্চিত করাটা গুরুত্বপূর্ণ নয় কি? । স্বপ্ন কে কখন কাকে কেনো দেখায়? সেই প্রশ্নের উত্তর সবসময় না খুজলেও কিছু সময় সেটা বুঝতে হয়, খুজতে হয়। যখন নিজের ব্যক্তি জীবনের পরবর্তী সময়ের দৃশ্য কেমন হবে সেই স্বপ্নের ফাঁদে পা দেয়ার পরে, সেটা ভাবতে গেলে। আপনি যে স্বপ্নটা দেখতে যাচ্ছেন, সেটা অন্য কেউ পূরণ করে দিবে ব্যক্তি স্বার্থ ছাড়া? হয়তোবা আপাতদৃষ্টিতে তা মনে হতেই পারে। কিন্তু আমরা অনেক ধরণের অদৃশ্য খরচের কথা জানি, যেসব আমাদের কল্পনায় ছিলোনা, বা চিন্তাও করিনাই। তবুও সেসব হয়ে যায়। তেমনি, আপনাকে ফাঁদে ফেলার জন্য যত ধরণের মিষ্টি প্রলোভন আছে, সবকিছুই উপস্থাপিত হবে খুব সুন্দরভাবে। যখন এসব চাকচিক্যের দৃশ্য সামনে ভেসে উঠে, কাল্পনিক কিংবা বাস্তবে, মানুষের মস্তিস্ক ডোপামিন নিঃসরণ করে সুখের, আকাঙ্খার, পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তখনি কেউ কাউকে খুব দ্রুতই সেই অন্ধকার ট্রাপ ফাঁদ জগতের প্রবেশদ্বারে প্রবেশ করাতে সক্ষম হয়! 

আর একবার কেউ যখন নিজের গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, তখন সেটা রেললাইন থেকে ট্রেনের ছিটকে পড়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি করাটা খুব বেশি অবাক করার বিষয় হয়না। বরং দূর্ঘটনা বরণ করার জন্যই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হয়। 



স্বপ্নের সিড়ি বেয়ে আকাশ ছুয়ে আসুন। সিড়িটা যেনো দ্রুতগতির না হলেও স্ট্যাবল হয়। যেখানে কনফিডেন্স থাকে। ভেঙে যাওয়ার ভয় না থাকে।

আমরা ছোটবেলায় মাছ শিকার করতাম, মাছকে ফাঁদে ফেলার জন্য বর্শীতে যে খাবার ব্যবহার হতো তা অনেকসময়ই মিষ্টি জাতীয় খাবার। তেলাপোকা ,ইদুর মারার জন্য খাবারে বিষ মিশানো, আর সেসব খাবার ও যে মিষ্টি জাতীয় খাবার থাকতো।

এসব ছোট ছোট বিষয় বলার উদ্দেশ্য একটাই- পৃথিবীতে এ যাবতকাল যত ধরণের বড় বড় প্রতারণামূলক অপরাধ কর্ম সংঘটিত হয়েছে। তার প্রত্যেকটার সাথে কয়েকটি জিনিসের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। এম এল এম বিজনেস সম্পর্কে যাদের আইডিয়া আছে, তাদের এ বিষয়টা বুঝতে সুবিধা হবে খুব দ্রুত। আর একটু সুক্ষ্মভাবে চিন্তা করলে সাধারণ যে কেউ বুঝতে পারবে। 

যে জিনিসগুলোর জন্য মানুষ ফাঁদে পড়ে, ফাঁদে ফেলতে পারে। প্রতারণার জন্য একটা রাস্তা তৈরি করতে পারে। 

তা হলো- 

  • স্বপ্ন দেখানো/ চাকচিক্যময় স্বপ্ন। 

  • লোভ, চাকচিক্যময় স্বপ্নের লোভে পড়া। 

  • অন্ধবিশ্বাসের মতো কঠিন রোগ। 


একটু চিন্তা করলেই দেখবেন। আমাদের আশেপাশে প্রতিনিয়তই দেখি, নিউজপেপার পড়ে জানতে পারি। কত ধরণের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। একটা স্কুল বাচ্চাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে বাসায় নিয়ে **** করেছে অমুক। এটা একটা অপরাধ। এটা যে ঘটিয়েছে তার পেছনের গল্পতে আমি যেতে চাচ্ছিনা। 

আমি শুধুমাত্র এই অপরাধটা সফলভাবে সংঘঠিত হবার পেছনের একটা কারণ দেখতে পাচ্ছি। সেটা হলো “লোভ” । একজন লোভ দেখিয়েছে, ভিকটিম সেই লোভে পড়েছে। এরপর অপরাধী তার চরিতার্থ  সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

এটাও বাদ দিলাম। এরপরে আমাদের সামনে আসে আধুনিক সময়ের অনেক ধরণের প্রতারণার ফাঁদ। আমরা সেসবে জড়িয়ে যাচ্ছি ভিকটিম হিসেবে। কেউ আমাদেরকে বললো একবছরের মধ্যে আপনি কোটিপতি হবেন, শুধুমাত্র এক্স এমাউন্টের কিছু টাকা দিয়ে। যা আপনার সাধ্যের মধ্যেই থাকবে। এবং আপনি আমি সেই ফাঁদে পড়ে তাদের দেখানো পথে পা বাড়াই। একটা সময় গিয়ে দেখা গেলো যা যা তারা বলেছে,  তারা আমাদেরকে দেখায় স্বপ্ন, আমরা লোভের আগ্রাসনে আটকে যাই। লোভ আর স্বপ্নের কম্বিনেশনে আবারো একটা প্রতারণামূলক অপরাধ সংঘটিত হয়। আল্টিমেট বিষয়টার সামারি আপ করলে আমরা দেখতে পাই- যেকোন আপরাধ সংঘঠিত হবার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় একত্রে কাজ করে। 

ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ। 

স্বপ্ন, আর লোভ। 



ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ: এই স্বার্থ জিনিসটা আমাদেরকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। যা আমরা হয়তো কখনো ঠান্ডা মাথায় চিন্তাও করিনা। আমরা অন্ধভাবে হোক, ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক। কেবলমাত্র চাই- আমাদের ভালো হোক, আমাদের উন্নতি হোক, আমাদের সব হোক। মোটকথা “আমাদের হোক” এই বৃত্তের মধ্যে আটকে থাকি। যখন শুধুমাত্র আমাদের মধ্যেই আটকে থাকি। তখন আসলে অন্যদের কি হবে, হচ্ছে, সেই ব্যাপারে ভাবার খুব একটা আগ্রহ থাকেনা। অন্যের ক্ষতি হোক কিংবা কষ্ট হোক। এসবে আমাদের কোনো মাথাব্যথা হয়না। আমরা নিজেদের অজান্তেই হয়ে উঠি মানুষের মাঝেই এক ধরণের হিংস্র মানুষ। 


স্বপ্ন দেখার কোনো লিমিটেশন নাই। কথাটা যুক্তিযুক্ত থাকলেও স্বপ্ন দেখার কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে। যা আমাদেরকে অবশ্যই জেনে বুঝে তারপরই দেখতে হবে। এমন অলীক সব স্বপ্ন দেখা যাবেনা, যেটা আমাকে অপরাধের মুখোমুখী নিয়ে দাড় করাতে পারে। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে জীবনকে অন্ধকার করতে পারে। 

জীবনে অনেক বড় স্বপ্ন দেখুন, সেসব পূরণের জন্য জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সংগ্রাম করে যান সঠিক উপায়ে। আপনার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব শুধুই আপনার। অন্য কেউ যখন সেটা পূরণ করতে যাবে, মনে রাখবেন- সে হয়তো তারই স্বপ্ন পূরণ করার জন্যই আপনাকে বেছে নিচ্ছে। এখানে একটা জটিল সমীকরণ আছে। একটু বিষদভাবে ভাবতে হবে। 

কিন্তু এটুকু অন্তত বুঝতে শিখুন- আপনার নিজের স্বপ্নটা প্রথমত একান্তই নিজের। যদি হুট করেই অন্য কেউ সেটা আপনার হাতে দিয়ে দিতে চায়, যেটা আসলে এত সহজে হাতে আসার কথা নয়। তাহলেই দাড়ান! একটু চিন্তার দরজা খুলে খোলা আকাশের দিকে তাকান। কিছু প্রশ্নের উত্তর ঠান্ডা মাথায় ভেবে বের করুনঃ  যদি কোনো সদুত্তর খুজে পান, তাহলে এগিয়ে যান, যদি না পান, আবার ভাবুন , যদি তাও না পান। স্টপ- 



একটা জিনিস মাথায় রাখুন- আপনি আমি কেউই কোন ধরণের ব্যক্তি স্বার্থ ছাড়া কোনো কার্য সম্পাদনে অগ্রসর হইনা। 

যদি সেটা হয় বাবা মায়ের ভালোবাসাও। বাবা মা সন্তানকে ভালোবেসে মানসিক শান্তি উপভোগ করে। ভালোলাগা কাজ করে। আর এজন্যই সন্তানকে ভালোবাসে। 

যেখানে বাবা মা সন্তানের ভালোবাসার মধ্যেও কিছু একটা স্বার্থ আছে। হোক সেটা আর্থিক বা মানসিক। সেখানে পুরো স্বার্থপর দুনীয়া থেকে বিনা স্বার্থে কিছু পাওয়ার আকাঙ্খা পোষন করাও অন্যায়। নিজের যেটুকু আছে সেটুকু নিজ স্বামর্থ্যে গড়ে তোলার চেস্টা অব্যাহত রাখুন।


বিশ্বাস করুনঃ যা দেখেন, না দেখেন। কিন্তু বিশ্বাস করার পেছনের যুক্তিগুলোও বুঝুন, জানুন।  কারণ পৃথিবীতে এমন অনেক কিছুই রয়েছে। যেখানে বিশ্বাসের ভুমিকা অপরিসীম। 

অন্ধবিশ্বাসের পর্যায়গুলো বিবেচনা করুন। না জানলে জানার উপায় বের করুন। নিজের সেইফটির কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন। এরপরেও মানুষ ভুলের নূন্যতম উর্ধ্বে নয়। ভুল করা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ঠ্য। তবুও ভুলের পরিমান এমন লেভেলেই রাখার চেস্টা করা উচিত। যেখান থেকে একচুয়ালি উঠে দাঁড়ানো যায়। একেবারেই  যেনো হারিয়ে যেতে না হয়। প্রয়োজনে সন্তুষ্ট হবার শক্তি বাড়ান। তবুও ভুল পথে যেনো পা বাড়াতে না হয়।



মিস্টি স্বপ্নের জালে আটকা পড়ে নিজের সুন্দর স্মৃতিগুলো যেনো ধূসর না হয়! জীবনকে উপভোগ করতে গিয়ে এমন জটিল চক্রে যেনো আটকে না যাই, যেখান থেকে বের হবার জন্য দমবন্ধ হয়ে আসলেও আর বের হওয়া সম্ভব হয়না, শুধুমাত্র দীর্ঘশ্বাসকে সঙ্গী করে বাঁচতে হয়! সবার জন্য শুভকামনা। সবগুলো সিদ্ধান্ত সুন্দর হোক।


শাকিল আহমেদ।

সাপ্লাই চেইন ম্যানেজার, প্রিয়শপ ডটকম লিমিটেড।