Tuesday, July 2, 2024
অমিমাংসিত সমীকরণ... | Shakil Ahmed
Thursday, April 27, 2023
“যেই ভালোবাসার জন্য মানুষ অবহেলা সহ্য করে, সেই অবহেলার জন্যই মানুষ ভালোবাসা ত্যাগ করে”
![]() |
| Love life |
“যেই ভালোবাসার জন্য মানুষ অবহেলা সহ্য করে, সেই অবহেলার জন্যই মানুষ ভালোবাসা ত্যাগ করে”
ভালোবাসার জন্য মানুষ প্রচন্ডরকম অবহেলা পেয়েও তার ভালোবাসার মানুষটির কাছে থাকতে শুরু করে। শুধুমাত্র এটুকু আশা নিয়ে, একদিন তার ভালোবাসা সব অবহেলা আকাশে উড়িয়ে দিবে। সুন্দর হবে প্রতিটি সকাল। প্রত্যাশায় ভরে উঠ ঘরখানি। জীবনের সব না পাওয়া উপেক্ষা করে ভালোবাসার মানুষের মুখের হাসিতে থমকে যাবে সমস্ত দীর্ঘশ্বাস। স্বপ্নের মতো হবে সবকিছু।
কিন্তু প্রকৃতির নিয়মে পরিবর্তিত হওয়া স্বভাবে আবহাওয়ার মতো ঋতুর পরিবর্তন ঘটতে থাকে মানুষের মনেও। একদিন কনকনে শীতের রাতে কিংবা চৈত্রের খড়ায় দুপুরের রোদের তাপে দাঁড়িয়ে মনে হতে থাকে এত অবহেলা কেনো সহ্য করছি!! ভালোবাসা আমাকে কী দিয়েছে!
যে ভালোবাসার জন্য এত অবহেলা সহ্য করে অতিবাহিত করেছে অনেকগুলো বছর, হঠাত করেই সেই অবহেলার সমস্ত কল্প চিত্র এক নিমিষেই মনের মধ্যে ভেসে উঠে সিনেমার সিকুয়েন্সের মতো। একটার পর একটা দৃশ্য আসতে থাকে এবং মনে করিয়ে দিতে থাকে, কি সে করেছে এতদিনে।
একটা সময় পরে সেই অবহেলার কারণে মানুষ ভালোবাসা ভুলতে শুরু করে। দুরত্বের লাগাম টেনে আর কাছাকাছি নিয়ে আসা যায়না। স্রোতের মতো কেবল ধাবিত হতে থাকে অন্যমুখী হয়ে। পৃথিবীতে সব সম্ভব, অনাকাঙ্খিত অনেক কিছুই ঘটে। ভালোবাসা সুন্দর হোক সমস্ত কিছুর বাইরে গিয়ে।
- April 12, 2023
Wednesday, April 26, 2023
তুমি ভুলে যাবার অনুমতি চাইলে, আমি চুপ করে রইলাম
তুমি ভুলে যাবার অনুমতি চাইলে, আমি চুপ করে রইলাম। তুমি অনুমতি না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেলে। তোমার চলে যাওয়া দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমেছিলো। তুমি চলে যাবার পরেই মেঘ করেছিলো আকাশে। সন্ধ্যা নামতেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি শুরু হলো। ঝুম বৃষ্টি। অঝোড় ধারায় বৃষ্টি শেষে হঠাত করেই থেমে গেলো পুরো শহর। নিস্তব্দ হয়ে গেলো এক নিমিশেই। আমি হাতের সিগারেট শেষ করে ক্ষুদা নিয়েই ঘুমাতে গেলাম। ঘুম হয়নি সে রাতে। শুধু বারবার ভেসে উঠেছিলো তোমার কাজল কালো আঁখি দুটো। কি মায়াবী চোখ। অথচ আজকে তুমি চোখ মুখ শক্ত করে ভুলে যাবার অনুমতি চাইছো! আসলে কাউকে ভুলে যাবার জন্য এভাবে অনুমতি চাওয়াটা আমার কাছে নতুন লেগেছিলো। জানিনা এর আগে কেউ কারো কাছে চেয়েছিলো কিনা!
এরপর কেটে গেলো অনেকট সময়। আমি সে শহর ছেড়ে চলে গেলাম অন্য শহরে। আমাদের যোগাযোগ নেই বহুদিন, প্রায় ১৭ বছর হতে চললো। নিজের সকল পরিচয় গোপন করে বাঁচতে লাগলাম যাযাবরের মতো। তুমি চিঠি লিখেছিলে এর মাঝে। আমার ঠিকানায় চিঠি পৌছেছিলো ঠিকঠাক। কিন্তু কোনো উত্তর পাওনি। কারণ সে চিঠিগুলো আমার হাতে পৌছায়নি। আর আমার হাতে এলেও, উত্তর পেতে না। একবারের জন্যও আমার কখনো জানতে ইচ্ছে হয়নি তুমি কেমন আছো। কি করছো, বা কোথায় আছো! আমার এসব কোনোকিছুই জানার আগ্রহ জন্মায়নি। যাযাবরের জীবনকে এত আপন লাগতেছিলো। কিন্তু হঠাত করেই বুকের ব্যথাটা বেড়ে গিয়েছে বেশ কিছুদিন হলো।
তুমি ভুলে যাবার অনুমতি কেনো চেয়েছিলে ? তা তো বলে গেলেনা! আমি কি তোমাকে অনুমতি দেইনি বলে ভুলতে পারো নি? আসলে কি সহজে কাউকে ভুলে থাকা যায়? পেরেছো কী!
বলেছিলাম বুকের ব্যথাটা বেড়েছে। এর আগে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলেছিলো কবিরাজ। ওষুদপত্র দিয়েছিলো কিছু। ঠিকঠাক ওষুদ খেতেও আমার সহ্য হয়না।
আজ এখানে আবার বৃষ্টি নেমেছে বহুদিন পরে। এই শহরের মানুষগুলো বড্ড ব্যস্ততায় সময় পার করে। কেউ কাউকে দেখার সুযোগ নেই। দোতলা বাড়ির ছাঁদে বসে আছি। শ্যাওলা জমে একাকার। বাড়িতে কেউ থাকেনা আজকাল। ভদ্র লোকের দুই ছেলেই লন্ডনে থাকে। এক মেয়ে, জামাই সহ আমেরিকায় থাকে। একজন কেয়ারটেকার বাড়ির পাহারা দেয়। নিজের অন্য একটা বাড়িতে স্বামী স্ত্রী দুজনে থাকে। দোতলা বাড়িতে চারটে রুম সম্ভবত আছে। আমি একটা রুমে থাকি। বিদ্যুতের সমস্যা হয় প্রায়ই। পানির সমস্যা খুব একটা হয়না। তবে যেটুকু হয় তাতে মানিয়ে নেয়া যায়। ভাড়া তুলনামূলক কম দিয়েই চলতে পারি।
কিছুদিন হলো মনেহচ্ছে আলোবাতাস ছেড়ে চলে যেতে হবে অন্ধকারে। খুব একা লাগছে নিজেকে। শক্তিহীন হয়ে পড়ছি দিন দিন। কোনো কাজেই আর মন বসছে না।
ভালোবেসেছিলে কি আমাকে? জীবনে ভালোবাসা ছেড়ে যাওয়ার অসহায়ত্ব কি ভয়ংকরভাবে মানুষকে স্তব্দ করে দিতে পারে। আজকে সম্ভবত কিছুটা উপলব্ধি করতে পারছি। আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। ক্ষমা করো আমাকে। ভালোবাসলে ধরেও রাখতে হয়। পারিনি হয়তো। এই অপরাধবোধ আমাকে শেষমেশ শেষ করেই দিবে। অন্ধকার বেড়েই চলছে। আজকের আকাশে কি চাঁদ নেই?
#ভালোবাসারঅনুভূতি
লিখাঃ শাকিল আহমেদ রেদওয়ান
২৫ এপ্রিল ২০২৩
Sunday, August 14, 2022
প্রথমবার মা/বাবা হওয়ার অনুভূতি ঠিক কেমন !
আপনার জীবনে প্রথম সবকিছুর অনুভুতি সম্পর্কে বলতে পারবেন কয়েক লাইন? প্রথম স্কুলে যাওয়া, প্রথম প্রেমে পড়া, প্রথম সাইকেল চালাতে পারা, বাইক চালাতে পারা, ইত্যাদি।
প্রথম সব কিছুর অনুভুতি অন্যরকম থাকে। যা আসলে কয়েক শব্দে প্রকাশ করে অনুভুতি বুঝানো অসম্ভব প্রায়।
নিজে যেহেতু এখনো বাবা হতে পারিনি। তবে যতটুকু বুঝতে পারি। প্রথম বাবা মা হবার অনুভুতি ঠিক সেরকম, যেমনটাঃ হাজার হাজার অপেক্ষা এবং কষ্টের পরে কোনো কিছু পাওয়া মানে, পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হিসেবে নিজেকে কল্পনা করা। সেই মুহুর্তে আপনার জীবনের হাজার অর্জনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হয়ে দাঁড়ায় এটা।
অনেকের কাছেই এমন অভিজ্ঞতার কথা শুনতে পেরেছি। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভুতির মধ্যে একটা হলো বাবা মা হবার অনুভুতি।
ফেসবুকে আমিঃ শাকিল আহমেদ রেদওয়ান
লিংকডইনে আমিঃ Shakil Ahmed
Saturday, August 13, 2022
দীর্ঘ ৪ বছরের সম্পর্ক ভেঙে যেতে দেখেছেন? এবং অতীত ভুলে সুখী হয়েছে কিনা?
আমি দেখেছি ৬ বছর নয় শুধুমাত্র। দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্ক ভেঙেছে। এবং দুজন আলাদা হয়ে গেছে। একজন বিয়ে করে সংসার করছে। আরেকজন এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজের মতো করে।
অতীত ভুলে সুখী হয়েছে কিনা?
এটা সম্পূর্ণই আলাদা বিষয়। মনস্তাত্বিক ব্যাপার। অতীত খুব সহজে ভুলা সম্ভব হয়না। তবে আস্তে আস্তে স্মৃতিগুলো ধুসর হতে থাকে। যখন নতুন সম্পর্কে নতুন নতুন স্মৃতি যোগ হতে থাকে। সময়গুলো সুন্দর কাটে। তখন স্বাভাবিক ভাবেই আগের স্মৃতি নিয়ে ভাবার সময় কম থাকে। ব্যস্ততা বাড়ে, সংসারের কাজ বাড়ে। সব মিলিয়ে যদি কেউ চায়, আগের অতীত ভুলে সামনের দিনগুলো ভালো কাটাবে। তাহলে অবশ্যই সম্ভব।
তবে, বর্তমানে এরকম লম্বা রিলেশনশীপ ভেঙে যাওয়াটা অবাক হবার মতো কিছু নয়। হরহামেশাই এমন ঘটনা ঘটছে। একসাথে থাকার পরেও সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। নতুন করে অন্য কোথাও সুখ খুজার চেষ্টা করছে নিয়মিত। লম্বা সময় কোনো বিষয় নয়। ৬ কিংবা ৯ । হতে পারে ৬ মাসের সম্পর্কেও অনেক বেশি আনন্দ আর ভালোবাসা থাকে। যেটা ছেড়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
তাই আমার মনেহয়- সম্পর্কের বয়স দিয়ে ভালোবাসা পরিমাপ করা অসম্ভব। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে সবার আগে নজর দিবেন। ধন্যবাদ।
ফেসবুকে আমিঃ শাকিল আহমেদ রেদওয়ান
লিংকডইনে আমিঃ Shakil Ahmed
Saturday, June 11, 2022
আপনি কি নিজের উপর নিজের কন্ট্রোল হারাচ্ছেন? রাগের সময় কি করছেন? নিজের জীবনকে নিখুঁত করার দায়িত্ব একান্তই নিজের।
নিজের জীবনকে নিখুঁত করার দায়িত্ব একান্তই নিজের। শুধুমাত্র আশা করে বসে থাকলেই খাবার টেবিলে নিশ্চয়ই খাবার চলে আসবেনা, তার জন্য কাজ না করলে। শুধুমাত্র কারো উপর ভরসা করে বসে থাকলে কখনোই সেটা পরিপূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়না। প্রত্যেকটি কাজেই ব্যর্থতা থাকবে।
নিজের ইমোশনকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা যদি আপনার থাকে, রাগের মুহুর্তকে যখন সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতে পারবেন। তাহলেই নিজের উপর অর্ধেক কন্ট্রোল আপনার চলে এসেছে। রাগের সময় নিজেকে কিভাবে নিয়ন্ত্রন করেন?
জীবন যেমন চিরস্থায়ী নয়, সময় তারই একটা অংশ। তাই অবশ্যই আমাকে বুঝতে হবে কোন কাজের গুরুত্ব বেশি, আর কোন কাজের গুরুত্ব কম। সেভাবেই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহন করে এগিয়ে যেতে হবে।
কোনো কিছুতেই ওভার থিংকিং করা যাবেনা। কোনো একটা বিষয়ে এনালাইসিস করা যেতে পারে, বুঝার চেস্টা করাটা ডিফারেন্ট। কিন্তু ছোট একটা বিষয়কে কখনোই অনেক বড়ভাবে চিন্তা করে নেগেটিভ ইমপ্যাক্টের মাধ্যেমে জীবনের সহজতর চলার পথকে কঠিন করা যাবেনা। থিংকিং ইজ গুড। বাট ওভার থিংকিং কখনোই পজেটিভ নয়।
সবচেয়ে বড় যেই ব্যাপার, তা হলো- আপনার নিজের ব্যথা অন্য কেউ ফীল করতে পারবেনা। তাই অন্যের কথায় কান দিতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেললে আর খুঁজে পাবেন না।
নিজেকে কখনোই সেই চিন্তার ধারে কাছেও নেয়া যাবেনা, যে- আপনি অনেক কিছু জেনে ফেলেছেন, অনেক ডিগ্রী আপনার দখলে তারমানে দুনীয়ার সকল জ্ঞান আপনার মধ্যে চলে এসেছে। ভুল করেও এমন মনোভাব যেনো নিজের মধ্যে তৈরি না হয়। মানুষ মৃত্যু পর্যন্ত শিখতে থাকে। শিখতে হয় প্রতিটা স্টেপে। একাডেমিক জ্ঞান, আর বইয়ের পাতায় লিখা হাজার লাইনের গল্প, স্ট্রাটেজি , সিস্টেম, আপনাকে যতটুকু শিখাবে, তারচেয়ে অধিক শিখাতে পারে একজন সাধারণ ব্যক্তি, যার সাথে হয়তো আপনি আজকে রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট কথা বলেছেন। অথবা আপনার সামনে থাকা আপনার প্রিয় বস, অথবা সিনিয়র, জুনিয়র কোনো ব্যক্তি। যে শিখে এসেছে জীবনের প্রতিটি ধাপে কেমন করে এগিয়ে যেতে হয়।
আপনার চিন্তাশক্তি আপনাকে পরিচালিত করবে। যখন আপনি ভাববেন কাজটি সম্ভব আপনার দ্বারা। ধরে নিতে পারেন অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আর যদি ভাবেন সম্ভব নাহ। তাইলে নিজেই নিজের মাইন্ডের সাথে পেরে উঠলেন না। হেরে গেলেন প্রথমেই। আমরাই আমাদের বড় বন্ধু এবং আমরা নিজেরাই নিজেদের বড় শত্রুও।
#শাকিলআহমেদরেদওয়ান
Wednesday, April 27, 2022
আমার হৃদয় শুধু একটা সকাল চেয়েছে। সুন্দর সকাল। দোয়েল ডাকা ভোর। বৃষ্টি ভেজা স্নিগ্ধ ভোর!
শালিকের ডাক শুনতাম নিয়মিত। প্রত্যেক সকালে দোয়েলের ডাকে ঘুম ভাঙতো। অনেকবছর হয়েছে দোয়েলের ডাক শুনিনা। ভুলেই গেছি প্রায়। দোয়েলের ডাক কেমন হয় মূলত। পাখিটা খুবই পছন্দের রঙ নিয়ে ঘুরাফেরা করতো। কালো আর সাদার একটা দারুণ মিশ্রন। আমার কাছে বেশ ভালোই লাগতো। বসন্তের কোকিলের ডাক ভীষন প্রিয় ছিলো। হঠাত করে দূর থেকে কোকিলের মধুর সুর কানের মধ্যে প্রবেশ করতো প্রচন্ড গতিতে। মূহুর্তেই নিজের মুখ থেকেও সেই শব্দ বের হয়ে আসতে চাইতো, কোকিলের মতো। গরমের মধ্যে বাতাসের তীব্র মিশ্রন একটা অন্যরকম পরিবেশ হয়ে চারিদিকে ঘুরপাক খেতো। নানারকম ফুলের-ফলের গ্রান ভেসে আসতো বাতাসে। আনমনে হেটে বেড়ানো রোদমাখা দুপুর সবুজ গাছের ছায়ার সন্ধান করতাম কিছুক্ষনের জন্য।
আমের মুকুলের ঘ্রান ছড়িয়ে পড়তো পুরো গ্রাম জুড়ে। ঝিঝিপোকার ডাকে অত্যাচারিত হয়ে মনে হতো কানের মধ্যে তুলো দিয়ে রাখলে কি এই ভয়ংকর শব্দ থেকে পরিত্রান পাওয়া যায় কিনা! আমগাছ, সুপারিগাছের শরীর জুড়ে লেপ্টে থাকতো অনেক ঝিঝিপোকার কঙ্কাল, যারা গত রাতেই কিংবা মধ্য দুপুরে চিৎকার করতে করতে জীবন দিয়েছে। এরা কেনো মারা যায় আমার সে সম্পর্কে ধারণা নেই, কখনো এটা নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ হলে অবশ্যই করবো, ইচ্ছা আছে। পৃথিবীতে প্রায় ৯০০শ টিরও বেশি প্রজাতির ঝিঝিপোকা চিহ্নিত করা হয়েছে।এরা মূলত নিশাচর এবং উচ্চ শব্দে গান গাইতে থাকে, আর এই কাজটা মূলত করে থাকে পুরুষ ঝিঁঝিঁ, নারী ঝিঁঝিঁকে কাছে টানার জন্য এটা একটা কৌশল বটে।
বর্ষায় ব্যাঙের ডাক শোনা যেত বৃষ্টি থামার পরেই কিংবা বৃষ্টি চলাকালীন সময়ে। আকাশ ভেঙে মেঘের গর্জন যেনো সব কোলাহল থামিয়ে দিতো মুহুর্তেই। অন্ধকারচ্ছন্ন আকাশ দিনের সূর্যকেও লুকিয়ে ফেলতো অনায়াসেই। মাঝেমধ্যেই আমার মনে হতো আকাশের এক প্রান্তে ঘর বাধি। যেইখানে দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ, আকাশকে ছুঁয়ে রেখেছে নিজেদের মতো। এমন বন্ধুত্বপূর্ণ প্রেম দেখা যায়না সচরাচর।
কোলাহল মাখা জীবনের বসন্তগুলো ফুরিয়ে যায় নিয়মিত একটু একটু করে। আমার চাঁদ দেখা নিস্তব্ধ রজনীর সেই সুন্দর সময়গুলো স্মৃতিচারণ করে কাটাতে হয়! কি সুন্দর মনোরম ছিলো সেই দৃশ্য। মনের জানালা খুলে রাখি যত্ন করে। কাক ডাকা ভোর কিংবা দোয়েলের ডাকে যদি আবার ঘুম ভাঙে কখনো। কখনো যদি টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে গুন গুন করে পছন্দের কবিতার লাইন পাঠ কিংবা এলোমেলো গানের লাইনে সুর তোলার চেষ্টা করতে পারি! আবার কখনো এমন সময় আসবে কী! জানা নেই।
কাঁচা আমের এক ধরণের গন্ধ আছে। ফুলের গন্ধের মতো নির্মলতা না থাকলেও একটা পরিচিত ঘ্রান। মনে রাখার মতো ঘ্রান। টুপটাপ শব্দ করে যখন গাছের পাতা থেকে চুইয়ে চুইয়ে পুকেরের জলে বৃষ্টির পানি অনবরত পড়তে থাকে, বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরেও। কানে লেগে থাকে সেই শব্দ। রিমঝিম শব্দ।
বাতাসের জন্য যে সকল কবিতা, গান রচিত হয়েছে, তার সবই সুন্দর। বাতাস কখনো দেখতে পারিনাই চোখে। তবু হেমন্তের কিংবা গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় ছুটে আসা বাতাস দেহ ছুঁয়ে যাওয়ার সময় যে আকূলতা নিয়ে হৃদয়ে ঢেউ তুলে যায়, কিংবা শীতের সকালের উত্তর প্রান্ত থেকে ধেয়ে আসা কঠিন বাতাস ঝাঝরা করে দেয় কলিজা, অথবা বৃষ্টি হবার পূর্ব মুহুর্তের এক মধুর হিমশীতলতা। সবকিছুতেই মুগ্ধতার ছোঁয়া।
এসব কিছুই জীবনের অবিচ্ছ্যেদ্য অংশ। এসব নোনাজল, কাদামাটি,মাটির ঘ্রান, নদীর ঢেউ, বর্ষায় দুই পাড় ঢুবে যাওয়া পুকুরের শুনশান নিরবতা, ধানের শীষে ভাসতে থাকা আবেগ, রাতের গভীরে দূর থেকে ভেসে আসা শিয়ালের ডাক। সব, এমন হাজারো ছোটবড় বিষয়গুলো জীবনে জড়িয়ে রয়েছে পুরোনো বাড়ির শ্যাওলা জমা উঠোন কিংবা দেয়ালের মতো। এসব ফেলে দিতে হয়না, ফেলতে নেই!
আমাদের শহর গড়ে উঠেছে, হাজার বছরের ঐতিহ্য আবেগ অনুভুতিকে মাথায় নিয়ে। অথবা শহর গড়ে উঠেছে ইট পাথরের কর্পোরেট ছোঁয়ায়। আমরা উন্নত হচ্ছি, এগিয়ে যাচ্ছি, বড় হচ্ছি, স্বপ্নের সীমারেখা আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। পৃথিবীর বয়স বাড়ে। আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতির পরিবর্তন, পরিমার্জন ঘটে। আমরা মানুষ হতে চাই, অথবা মানুষের মতো নিজেদেরকে উপস্থাপন করি।আমাদের মিথ্যে মুখোশ পরিহিত থাকে। জয় পরাজয় নিয়ে চিন্তিত হই। আমরা বিপ্লব চাই। ঘরের কোনে বন্ধি হই। হাতের মুঠোয় পৃথিবীকে নিয়ে দিব্যি চায়ের কাপে ঠোঁট রাখি। গল্পে আড্ডায় মেতে উঠি। প্রকৃতির মতো করে প্রেমিক প্রেমিকার চোখে চোখ রাখি। হারিয়ে ফেলি নিজেদেরকে। স্বপ্নের ঘোরে কত কিছুই বলি। কত দিবা স্বপ্ন দেখি। একদিন সব হবে বলে সুখ কুড়াই, বা আক্ষেপ জমিয়ে রাখি।
এতকিছু করেও আমরা মাঝেমধ্যেই মানুষত্ব্য নামক কঠিন এবং অপরিহার্য বিষয়কে ভুলে যাই। পথে পথে দাঙ্গা তৈরি করি। মানুষকে কষ্টের মধ্যে রেখে নিজেদের উল্লাসে মেথে উঠার সমস্ত সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে যাই। গবেষনায় খরচ করি- মানুষ বাঁচানোর চেয়ে কিভাবে দ্রুত মেরে ফেলা যায়, প্রতিনিয়ত কষ্টের মধ্যে রেখে, সেটাই গবেষনা করে যাই। অথচ, আমরা কত সুন্দর ছিলাম। কত ভালো ছিলাম। আমরা তো ভালোই থাকতে চাই একটুখানি, আর বেশি কিছু তো চাওয়ার নেই এক জীবনে!
আমি বহুবার মন খারাপ করে একা একা হেটেছি, রাতের আলোয় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি। পানিতে দুলতে থাকা ঢেউয়ের সাথে কথা বলেছি। বারবার আমার হৃদয় শুধু একটা সকাল চেয়েছে। সুন্দর সকাল। একদম পুরোনো দিনের সেই দোয়েল ডাকা ভোর। বৃষ্টি ভেজা স্নিগ্ধ ভোর!
Sunday, April 24, 2022
প্রতি মূহুর্তে এই পৃথিবীতে থেকে কেউ না কেউ বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছেন। চলে যাওয়ার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ।
প্রতি মূহুর্তে এই পৃথিবীতে থেকে কেউ না কেউ বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এবং আমরা প্রত্যেকটা মানুষ হসপিটালের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার মতো পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার যেই লম্বা লাইন রয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কেউ জানিনা- আসলে আমাদের লাইনের সামনের দিকে কতজন মানুষ রয়েছে, যারা শেষ হয়ে গেলেই আমাদের ডাক পড়বে। এটাও জানিনা আমাদের পিছনের দিকে কত মানুষ রয়েছে!
শুধুমাত্র একটা জিনিসই জানি, সেটা হচ্ছে এই লাইনের বাইরে কেউ যেতে পারবেনা, না পিছনের দিকে, না; সামনের দিকে । যতক্ষন পর্যন্ত আমার সামনের স্থান ফাঁকা না হচ্ছে, ততক্ষন সেখানেই স্থির থাকতে হবে।
আমরা যেহেতু এই একটা চিরন্তন লাইন থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নিতে পারবোনা, বা কোনো সুযোগই নেই এই লাইনের বাহিরে কোথাও নিজেদেরকে আড়াল করে রাখা। সেক্ষেত্রে যতক্ষন সময় আমরা অপেক্ষমান একজন সদস্য হিসেবে আছি। নিজেদের সেই সময়টুকুর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আরেকটু সুন্দর থাকা, আরেকটু নিজেদেরকে পরিপাটি করে নেয়া উচিত।
আমরা যখন লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তখন আমাদের প্রতিটা মূহুর্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায়োরিটি লিস্ট থাকবে, যেটা সবার আগে শেষ করতে হবে। সময়কে কাজে লাগাতে হবে। পৃথিবীর জন্য যে উপহার আমি রেখে যাবো, সেটা সবার জন্য যেনো কাজে লাগে।
কারো মুখে যেনো আমার দ্বারা হাসি ফুটে, সে যেন ভালো থাকে এটা নিশ্চিত হওয়া। অন্তত আমার দ্বারা কেউ যাতে কষ্ট না পেয়ে থাকে।
মানুষকে ভালোবাসতে শুরু করতে হবে। ভালোবাসার মতো মহান আর কি আছে!
শান্তি, ভালোবাসায়, নিজের জীবনকে পরিপূর্ণ করে নিন, আশেপাশে যারা রয়েছে, তাদের মাঝেও ছড়িয়ে দিন।
নিজেকে এবার তৈরি করে নিন, কোনো লেনাদেনা যেনো না থেকে এই ক্ষনস্থায়ী পৃথিবীর সাথে। যারা বলে এই পৃথিবী স্থায়ী, তাদের কাছ থেকে দূরে রাখুন নিজেকে। এমনভাবে তৈরি হয়ে উঠুন, যেনো- কোনো অপরাধবোধ নেই নিজেকে নিয়ে।
বেঁচে থাকার জন্য আমরা মানুষ যে পরিমান কষ্ট করি, যুদ্ধ করি। অথচ বেঁচে থাকাটা চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয় আমাদের। বেঁচে থাকাটা হচ্ছে একটা এডিশনাল গিফট আমাদের জন্য। আমরা নিজেরাই যেহেতু নিজেদের জীবন উপহার হিসেবে পেয়েছি, এটাকে আদর যত্নে অন্য মানুষদের জন্যও কিছু উপহার তৈরি করে রেখে কিভাবে দূশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে পৃথিবী থেকে চলে যাবার চূড়ান্ত লাইনে দাড়াতে পারবো, সেই প্রত্যাশাই থাকুক।


